তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হাই কোর্ট বিভাগ-এর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। ১৮৫ পৃষ্ঠার এ রায়টি বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর স্বাক্ষরের পর সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
রায়ে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়েছে। এর ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত ক্ষমতা পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফিরে যাবে।
তবে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, রায়টি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিলের জন্য সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে এবং সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে।
এর আগে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এ সচিবালয় গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশটি এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করেছে।
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় সরকার মানতে বাধ্য এবং এর পরিপন্থি কোনো আইন অসাংবিধানিক হবে। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ মনে করেন, রহিতকরণ বিল পাস হলে রায়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
অ্যামিকাস কিউরি ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সরাসরি আদালতের রায় বাতিল করতে পারে না। তবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আদালতের রায় অনুসরণ করতে হয়, ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
রায়ে বলা হয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং এর পরিপন্থি কোনো আইন সংসদ প্রণয়ন করতে পারে না। যদি এমন আইন করা হয়, তবে তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে।
এছাড়া আদালত উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভ—আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথক্করণ নীতি বজায় রাখা জরুরি। বিদ্যমান ১১৬ অনুচ্ছেদ সেই নীতিকে খর্ব করেছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের কোনো বিধান অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হলে পূর্ববর্তী বিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বহাল হয়—যার নজির রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাংবিধানিক মামলায়।
Iqbal Hossain