ঢাকা আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ

জ্বালানি নিয়ে সংসদে এমপিদের ক্ষোভ

  • প্রকাশের সময় : Apr 7, 2026 ইং
জ্বালানি নিয়ে সংসদে এমপিদের ক্ষোভ ছবির ক্যাপশন: ছবি সংগ্রহিত
ad728

নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন এমপিরা। সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্ব, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিস ও সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তাঁরা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে কোনো জ্বালানিসংকট নেই, বরং সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও সরকারের বেশি প্রস্তুতি ও মজুত রয়েছে। এর আগে প্রশ্নোত্তর পর্বে একই কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

গতকাল ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিস নিয়ে আলোচনা শেষে ৩০০ বিধিতে বিবৃতিতে দেন মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি খাতের সঙ্গে আমাদের অর্থনীতি, স্থিতিশীলতা, দৈনন্দিন জীবন ও উৎপাদনব্যবস্থা সামগ্রিকভাবে জড়িত। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুত ও অগ্রিম প্রস্তুতির বিষয়টি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা জরুরি মনে করেছি।’ তিনি বলেন, ‘অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় ও মজুত করার কারণেই বাজারে একটি কৃত্রিম চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে আমরা সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি নিয়েছি। দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংঘাত ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ চাপের মুখে রয়েছে।’

পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দিন (১৭ ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের মজুত ছিল ২ লাখ ৬ হাজার টন। আজ (৩০ মার্চ) মজুত আছে ২ লাখ ১৮ হাজার টন। এই ৪১ দিনে ৪ লাখ ৮২ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে। বিপুল সরবরাহের পরও মজুত বৃদ্ধি প্রমাণ করে সরকার আগাম প্রস্তুতি ও ধারাবাহিক আমদানির মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থা সুদৃঢ় রেখেছে।

মানুষের যাতায়াত, পরিবহন, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছরের মার্চের চাহিদা ভিত্তি ধরে এবার ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সরবরাহব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে প্রকৃত চাহিদা সে অনুপাতে বাড়েনি। জনমনে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’ তিনি জানান, গত বছর মার্চে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ছিল ১২ হাজার টন, অকটেন ১ হাজার ২০০ এবং পেট্রোল ১ হাজার ৪০০ টন। অথচ চলতি বছরের ১ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত অকটেন বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৯ টন (দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৮ টন)। তেজগাঁওয়ের একটি পরিচিত পেট্রোলপাম্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেখানে গত বছরের চেয়ে অকটেন বিক্রি প্রায় ৯৬ শতাংশ বেড়েছে।

মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৫ শতাংশই ডিজেল, যার সরবরাহ স্বাভাবিক উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, অকটেন (৬.৮%) ও পেট্রোলের (৬.৭৭%) জন্য ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সঠিক চিত্র নয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহের প্রবণতায় এ সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে। এ সংকট উত্তরণে ইতোমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান চালিয়ে ১৫৩টি মামলা, ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি। এপ্রিলে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ এবং দেশি উৎস থেকে ৩০ হাজার টন পাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মজুতে আরও দুই মাসের চাহিদা অনায়াসে পূরণ হবে।’

জ্বালানি খাতে সরকারের বিশাল ভর্তুকির চিত্র তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, মার্চ-জুন প্রান্তিকে ডিজেল ও অকটেনে ১৬ হাজার ৪৫ কোটি এবং এলএনজি আমদানিতে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। বৈশ্বিক সংকটেও দেশের পরিবহন, শিক্ষা ও শিল্পকারখানা সচল রাখার চেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

সীমান্তে পাচার রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই মিলে সাশ্রয়ী ও সচেতন হলে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযত হওয়া এখন সময়ের দাবি। আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, ব্যক্তি নয়, দেশ; অপচয় নয়, সাশ্রয়; বিভক্তি নয়, ঐক্য। সবার আগে বাংলাদেশ।’

প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘জ্বালানি যেন আমরা একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ করতে পারি, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জ্বালানি, পররাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্য যেসব উৎস থেকে আমরা জ্বালানি আনতে পারি, সে বিষয়ে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আমরা সফল হব।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়েও কথা বলেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেখানকার মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’


নিউজটি আপডেট করেছেন : Iqbal Hossain

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
Iqbal Hossain

Iqbal Hossain