
বরিশাল নগরীতে দিন দিন বেড়েই চলেছে হানি ট্রাপ চক্রের প্রতারণা। মোবাইল ফোন ও ফেসবুকে বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নির্জন বাসায় ডেকে এনে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একাধিক চক্রের বিরুদ্ধে। চলতি মাসেই এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় তিনটি চক্রের মোট ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সর্বশেষ বুধবার রাতে নগরীর কাউনিয়া সাধুর বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ সাতজনকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পাবনা সদর হামিদপুর ডিসি রোড এলাকার শাহাবুদ্দিন আহমেদের ছেলে ইসতিয়াক আহমেদ বুলেট (৫০), গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ এলাকার আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বর্তমানে নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোডের ভাড়াটিয়া মো. হোসেন শাহীন (৪৫), বাকেরগঞ্জ উপজেলার সঠিখোলা এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে মো. ফেরদৌস (২৯), নগরীর নলী দাসের পোল এলাকার মৃত আবুল হোসেন চৌধুরীর ছেলে সাকিব চৌধুরী (৩৮), পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী এলাকার মৃত মো. শাহজাহানের মেয়ে সুমী (৩০), পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আরিফের স্ত্রী ছোয়া আক্তার সনিয়া (২৬) এবং টাউন স্কুল রোড এলাকার মো. ইলিয়াসের স্ত্রী আখি আক্তার (৩৮)।
পুলিশ জানায়, প্রতারক চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টার্গেট ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরে কৌশলে তাদের নির্দিষ্ট বাসায় ডেকে এনে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের ভয়ে বিষয়টি গোপন রাখেন।
মামলার বরাতে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানান, এক সরকারি চাকরিজীবীকে কৌশলে সাধুর বটতলা এলাকার মাসুম মিয়ার একটি ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে নগ্ন করে এবং দুই নারীকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় রেখে ছবি ধারণ করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়।
ঘটনার বিষয়টি ওই চাকরিজীবী তার স্ত্রীকে জানালে তিনি পুলিশকে অবহিত করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে কয়েকদিন পূর্বে এক আইনজীবীকে ফাঁদে ফেলার ঘটনায় হানি ট্রাপ চক্রের নারী সদস্য তাজরিন জাহান ইভাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ওই মামলার আরও পাঁচ পুরুষ সদস্য এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়া গত ৭ মে এক ইলেকট্রিশিয়ানকে বাসায় ডেকে নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের ঘটনায় সুমাইয়া আক্তার ও তার স্বামী কাওরান ইসলাম আকাশকে গ্রেফতার করা হয়। এরও আগে গত মার্চ মাসে নগরীর একটি হোটেল থেকে হানি ট্রাপ চক্রের সদস্য মিলিতা দত্ত ম্যালাইসা ও সান্টু হাওলাদারকে আটক করা হয়। একইভাবে গত ৬ ডিসেম্বর পাখি আক্তার নিশি নামের আরেক সদস্যকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, নগরীতে সক্রিয় একাধিক হানি ট্রাপ চক্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং এসব চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।